মুন্সীগঞ্জের চরকোয়ার ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ এর সাগঠনি সম্পাদক মো. সোহাগের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ১০ জুন, মন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে। এ সময় চরকোয়ার ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী হামলার তিব্র প্রতিবাদ জানান। এবং আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে সাংগঠনিক সম্পাদকের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক বলেন, আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে হামলা হয়েছে। সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এভাবে এলোপাতারি কুপিয়ে সন্ত্রাসী হামলা করেছে দুর্বত্তরা। আমরা বারবার আসামী ধরার জন্য ধরনা দিয়েছি কিন্তু থানা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আমাদের ছেলের উপর আক্রমনকারীর বিচার চাই।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে, রোববার রাত প্রায় সাড়ে আটটার দিকে মুন্সীগঞ্জের চরকোয়ার ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহাগ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। ওই রাতে সোহাগ তার সঙ্গী তপন শিকদারকে নিয়ে মোটর সাইকেলযোগে বাঘাইকান্দি সেন্টু মেম্বারের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে মো. সোহাগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
এ বিষয়ে গতকাল ২৫ মে, সোমবার রাতে থানায় পেনাল কোডে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৩৫, তারিখ : ২৬/০৫/২০২০ইং। মামলার ধারা : ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৪২৭/১১৪/৫০৬। অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন আসামীসহ ১২ জন আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আসামীদের মধ্যে রয়েছে- ১। গজ নবী (৫২), ২। সিদ্দিক আলী (৫০), ৩। আনোয়ার হোসেন আনা (৪৭), ৪। আদু নবী (৪৫), সর্ব পিতা- হাবু শিকদার, ৫। শরীফ (২৭), পিতা-গজ নবী, ৬। আলম ঢালী (৩৯), পিতা- কলিম উল্যাহ ঢালী, ৭। দুলাল (২৫), পিতা- নূরু, ৮। শাকিল (২৩), পিতা- খলিল, ৯। নুরু (৩১), ১০। মোস্তফা (৪৫), উভয় পিতা-নয়লাহী, ১১। জামাল (২২), পিতা-আবুল হোসেন মিজি, ১২। হানিফ (৩৫), পিতা-সাত্তার, ১৩। রিয়াজ (২৪), পিতা-জয়নাল, সর্ব সাং-ফুলতলা, থানা ও জেলা- মুন্সীগঞ্জ। এছাড়া মামলার বিবরণে অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন আসামী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৪/০৫/২০২০ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (সোহাগ) (৩৭) তার সঙ্গী তপন শিকদারকে নিয়ে মোটর সাইকেলযোগে বাঘাইকান্দি সেন্টু মেম্বারের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে ফুলতলা ইউনিয়নের মদন বাজারের বাগানের পূর্ব পাশে ব্রীজের উত্তর ঢালে পৌঁছামাত্র পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা সকল আসামীরা ধারালো দা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, ছেনদা, হকিস্টিক, বাঁশের লাঠি ও কাঠের ডাসা নিয়ে সোহাগের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সোহাগকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে, রক্তাক্ত জখম করে। সোহাগের চিতকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ১ নং আসামী গজ নবীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন সোহাগকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এনে তাকে ভর্তি করান। এদিকে সোহাগের ব্যবহৃত ২ লাখ টাকা মূল্যমানের মোটরসাইকেল ভেঙ্গে ফেলে ওই সন্ত্রাসী দল।
