রাজধানীর লালবাগে ৬২৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিনসহ অটোরিকশা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাজধানীর লালবাগ থানাধীন শেখ সাহেব বাজার এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ৬২৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিনসহ একটি অটোরিকশা জব্দ এবং একজনকে আটক করেছে লালবাগ থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে শেখ সাহেব বাজারের দোতলা মসজিদের পাশে রাস্তা থেকে অটোরিকশাটিকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি হলেন অটোরিকশাচালক মোঃ পলাশ। এ সময় ঘটনাস্থলে পলাশকে তদবির করে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে আসা সন্দেহভাজন মোঃ ইব্রাহিম নামে আরও একজনকে পুলিশ আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটকের পর পলিথিন বহনকারী অটোরিকশাচালক মোঃ পলাশ সাংবাদিকদের জানান, তিনি কামরাঙ্গীরচর থেকে কাওরান বাজারের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পলিথিনগুলো নিয়ে যাচ্ছিলেন।

পলাশ বলেন, “২৫ কেজি করে ২৫টা বস্তা শপিং ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছিলাম। ভাড়া ঠিক ছিল ৮০০ টাকা। আমার বাবা আগে এই পলিথিন টানত, এখন আমিও টানি। ভোরবেলায় কামরাঙ্গীরচরের কয়লার ঘাট এলাকায় একটি পলিথিন কারখানা থেকে এই মাল নিই। প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় এভাবে পলিথিন নিয়ে যাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সিন্ডিকেটের প্রধান সেলিম ভাই। উনি বলছেন কোনো সমস্যা নাই। রাস্তা-ঘাট সব ম্যানেজ করা আছে। তারপরও পেটের দায়ে এক-দুইটা কইরা ভোরে ট্রিপ মারি।”

পলাশকে আটক করার পর তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিতে ঘটনাস্থলে আসা মোঃ ইব্রাহিম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি নিজেকে পলিথিন সিন্ডিকেটের লোক বলে দাবি করেন।

ইব্রাহিম বলেন, “ভাই, আমারে সবাই চেনে। আমি পলিথিন সিন্ডিকেটের সেলিম ভাইয়ের লোক। সেলিম ভাই সব নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের বড় ভাই হাজী মুরাদও আছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “হাজী মুরাদের পরিবহনে, রাহমানীয়া ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে মাল যায়।”

এ কথা বলতে বলতে তিনি ওই পরিবহন এজেন্সির একটি রিসিট সাংবাদিকদের দেখান এবং বলেন, “পুলিশ আছে, সমস্যা নাই। সব সমাধান হয়ে যাবে। এত সমস্যা হইত না, কিন্তু সেলিম ভাই এখন হাসপাতালে ভর্তি।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ভোর সাড়ে সাতটার দিকে তারা শেখ সাহেব বাজার দোতলা মসজিদ এলাকায় হাঁটছিলেন। সে সময় একটি বড় আকারের অটোরিকশা ঢাকা অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বস্তা নিয়ে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল, যা দেখে তাদের আচরণে আতঙ্ক লক্ষ্য করা যায়।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “একটা বড় সাইজের অটো রিকশা ঢাকা অবস্থায় অনেকগুলো বস্তা নিয়ে যাচ্ছিল। রিকশাচালক ছিল উঠতি বয়সের ছেলে। আমরা কয়েকজন ডাক দিলে সে না থেমে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে।”

তিনি আরও বলেন, “তখন পাশের একজন মোটরসাইকেল দিয়ে রিকশাটিকে আটক করে দোতলা মসজিদের পাশে পুলিশের গাড়ির সামনে নিয়ে যাই।

সেখানে উপস্থিত লালবাগ থানার এএসআই মোঃ কাউসারকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বস্তা খুলে দেখেন, ভেতরে নিষিদ্ধ পলিথিন রয়েছে। পরে থানায় খবর দিলে লালবাগ থানার এসআই খালেদ ঘটনাস্থলে এসে এলাকার দোকানদারদের সাক্ষী গণ্য করে অটোরিকশা, পলিথিনের বস্তা ও আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যান।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন আলী জানান, ৬২৫ কেজি অবৈধ পলিথিনসহ একটি অটোরিকশা এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।