ঢাকা’র কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় জুড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটকল ও বালুর স্থাপনার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে নদীর তীরবর্তী পথে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইটের কণা ও ধুলোবালির কারণে ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই এসব ইটকল ও অবৈধ স্থাপনার আশপাশে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাত্রা বেড়ে যায়। মাদকাসক্তদের আনাগোনা, মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও নেশার আসর নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় সেখানে ছেলে-মেয়েদের অবাধ মেলামেশাও লক্ষ্য করা যায়, যা যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে একই ধরনের একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি আরও প্রকাশ্য হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সূত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন নাম। তবে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন বলেও তিনি দাবি করেন। এসব অবৈধ ব্যবসার কারণে দিন দিন বুড়িগঙ্গা নদীর সৌন্দর্য ও নদীপাড়ের স্বাভাবিক দৃশ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পথচারী ও এলাকাবাসীর মতে, নদীর তীরবর্তী সীমানা থেকে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হলে কামরাঙ্গীরচরের বেরিবাঁধ এলাকাটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে নদীর সৌন্দর্য ফিরবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কামরাঙ্গীরচর এলাকাবাসী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পুলিশ প্রশাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।