নরসিংদীতে ধর্ষণের পর কিশোরী হত্যা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

রাতে বাবার সামনে থেকেই কিশোরীকে তুলে নেয় স্থানীয় একদল যুবক। অনেক খোঁজাখুজি করে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয় ওই কিশোরীর মরদহ।

নরসিংদীর মাধবদী এলাকার এই ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যেমন আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তেমনি নিন্দা জানানো হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে।

ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন। রাতেই মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা ও তাঁর ছেলে রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মহিষাশুড়া ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তাঁর ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং মো. এবাদুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩০) ও মো. গাফফার (৩৭)।

পুলিশ, নিহত কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে ওই কিশোরীর কথাবার্তা হতো। ১৫ দিন আগে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যান নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ। তখন তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনার বিচারের জন্য মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর শরণাপন্ন হয় ওই কিশোরীর পরিবার। তবে বিচার পায়নি পরিবারটি। তাঁদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হন নূরাসহ ওই তরুণেরা। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তরুণ ওই কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও ওই কিশোরীর সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।

অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।