এপস্টেইন ফাইল কী? জানলে শিউরে উঠবেন

জেফ্রি এপস্টেইন—এই নামটি আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী ও ধনকুবের অর্থ ব্যবস্থাপক এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার নথি, সাক্ষ্য ও আদালতের কাগজপত্র সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এসব নথিই সাধারণভাবে পরিচিত হয়েছে “এপস্টেইন ফাইল” নামে। ফাইলগুলোতে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ভ্রমণের তথ্য, ইমেইল, সাক্ষ্যবিবরণী এবং তদন্ত সংক্রান্ত নানা তথ্য রয়েছে, যেখানে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল—তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌন নির্যাতন করেছেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য একটি যৌন পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছেন। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়, যা সরকারি ভাবে আত্মহত্যা বলা হলেও এ নিয়ে বহু প্রশ্ন ও সন্দেহ এখনো রয়ে গেছে। তার মৃত্যুর পরও তদন্ত ও দেওয়ানি মামলার মাধ্যমে বিভিন্ন নথি আদালতের হেফাজতে ছিল।

সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে এসব নথির বড় একটি অংশ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, এপস্টেইনের সঙ্গে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, ধনকুবের, আইনজীবী এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সামাজিক বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। তবে শুধু কারও নাম থাকা মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত—এমনটি নয়। আদালত ও আইন বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, এসব নথিতে অভিযোগ, সাক্ষ্য বা যোগাযোগের বিবরণ আছে, কিন্তু সব তথ্যই প্রমাণিত অপরাধ নির্দেশ করে না।

এপস্টেইন ফাইল প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিয়ে। কিছু নথিতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় সম্পূর্ণভাবে গোপন না থাকায় মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তথ্য প্রকাশ জরুরি হলেও ভুক্তভোগীদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

এই ফাইল প্রকাশের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক চাপ, তদন্ত পুনরায় শুরুর দাবি এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও অতিরঞ্জিত দাবি ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এপস্টেইন ফাইল মূলত ক্ষমতা, অর্থ ও অপরাধ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে—তার একটি ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধের গল্প নয়, বরং বিচারব্যবস্থা, স্বচ্ছতা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে এই নথির ভিত্তিতে নতুন কোনো মামলা বা তদন্ত শুরু হয় কি না, সেদিকেই এখন বিশ্বের দৃষ্টি।