আজ,১লা মার্চ (২০২৬) অমর একুশে বই মেলায় বাংলা একাডেমির গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত নতুন চারটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম, পিএইচডি।
নবপ্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. আশেক মাহমুদ ও অধ্যাপক ড. ফারহানা জামান যৌথভাবে রচিত ‘Smartphone Addiction in Bangladesh: How School-Children are Affected’, যেখানে সমসাময়িক সমাজে স্মার্টফোন আসক্তির প্রভাব ও স্কুলশিক্ষার্থীদের ওপর এর বহুমাত্রিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ রচিত ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে হাদীস চর্চা’ গ্রন্থে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হাদীসের গুরুত্ব ও বাংলা ভাষা-সাহিত্যে এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
আবার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. মেজবাহ-উল আজম সওদাগর রচিত ‘Climate Diplomacy of Bangladesh: Trends and Issues’ গ্রন্থে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কীভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ন্যায্যতা ও অভিযোজনভিত্তিক অবস্থান তুলে ধরে, তা গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম রচিত ‘Voices from the Margins: Community Journalism and Development Realities in Bangladesh’ গ্রন্থটি মূলত একটি মৌলিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে প্রণীত—দেশের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন, তাদের নিত্যদিনের উন্নয়ন-সংকট, আশা ও সংগ্রাম কি মূলধারার গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়? গ্রন্থটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শহরকেন্দ্রিক ও বাণিজ্যিক আগ্রহের প্রাধান্যে অনেক সময় গ্রামীণ বাস্তবতা আড়ালে থেকে যায়। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর “না-শোনা কণ্ঠ” জনপরিসরে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। এই প্রেক্ষাপটে উক্ত গ্রন্থ প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা, বাস্তবতা ও সম্ভাবনাকে সামনে আনার একটি সচেতন প্রয়াস হিসেবে রচিত হয়েছে। এটি কেবল একটি গবেষণাধর্মী প্রকাশনা নয়; বরং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শহরের বাইরে অবস্থানরত জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতাকে গুরুত্বসহকারে অনুধাবন ও মূল্যায়ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপরই গ্রন্থটির মূল বক্তব্য গুরুত্বারোপ করেছে।
লেখকবৃন্দ তাদের গ্রন্থ রচনার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "এ গ্রন্থসমূহের প্রকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। গবেষণাভিত্তিক এসব বই শিক্ষার্থীদের পাঠ ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে আরও মানসম্পন্ন প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"
এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন তিনি বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অনেকাংশে তার নিজস্ব প্রকাশনার ওপর নির্ভরশীল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশনার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। লেখকদের মেধা, শ্রম ও সময়ের বিনিয়োগে সৃষ্ট এসব প্রকাশনা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়েরও গৌরব।"
এবং সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল সাজ-সজ্জা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, দপ্তরের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
