(জবি)জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের এক নেতা একাধিক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণা ও যৌন হয়রানির অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ,(২১ এপ্রিল) ২০২৬।
মানববন্ধনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, "ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের কর্মীদের পরিচয় গোপন রেখে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে তারা শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছে বলেও দাবি করা হয়।"
অন্যদিকে, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “শিবির এর পূর্বে দৃশ্যমান কোনো কমিটি ছিল না। তারা দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে রাজনীতি পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের সকল ইউনিটের কমিটি স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত রয়েছে।"
তিনি আরো অভিযোগ করেন, "শিবির ‘হানি ট্র্যাপ’ ব্যবহার করে জকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করেছে।"
আবার, শাখা যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসাইন বলেন, "সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতারণা ও সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।" প্রথমে তাকে শিবিরের কর্মী হিসেবে অস্বীকার করা হলেও পরে জানা যায়, তিনি সংগঠনটির একজন পদধারী নেতা ছিলেন।
তিনি আরো জানান,"অভিযোগ প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করে দেন এবং সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্বও তাকে অস্বীকার করে। এটিকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’র অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।"
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বরাতে জানানো হয়, "অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন এবং পরবর্তীতে তা ভেঙেও দেন। এ বিষয়ে তিনজন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে, বক্তারা আরো অভিযোগ করেন, "শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করতে ‘হানি ট্র্যাপ’ কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কর্মীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। কোনো সংগঠনের সদস্য অপরাধে জড়িত থাকলে এর দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনকেই বহন করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।"
