জবিতে প্রথমবারের মতো ‘ভাইস চ্যান্সেলর রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান

পলি আক্তার, জবি প্রতিনিধি

(জবি)প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ভাইস চ্যান্সেলর রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদ থেকে ২০২৩-২৪ সেশনের মোট চারজন শিক্ষককে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আজ ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দপ্তরের আয়োজনে। শহিদ

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সনদপত্র, ক্রেস্ট ও চেক তুলে দেন। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—বিজ্ঞান অনুষদের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম, যিনি “Synthesis, crystal structure, biological evaluation, in silico ADME properties, enzymatic target prediction and molecular docking studies of pyrazolone-azomethine analogs” শীর্ষক গবেষণার জন্য সম্মানিত হন।
 
অন্যদিকে, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ নিসতার জাহান কবীর “They are us: Orientalist perspective challenged in New Zealand Newspapers' coverage” এর শীর্ষক প্রবন্ধের জন্য এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক “Implementing and sustaining lean, buyer-supplier role, and COVID-19 pandemic: insights from the garment industry of Bangladesh” শীর্ষক প্রবন্ধের জন্য। লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাছিনা আক্তার “Livelihood vulnerability to urban flood: the case of urban poor households in Dhaka, Bangladesh” শীর্ষক এ পুরস্কার লাভ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এ ধরনের অ্যাওয়ার্ড প্রদান একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বলেন, তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে এবং তারা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।"

তিনি আরো বলেন, "গবেষণা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে উৎসাহ প্রদানের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাং কিং উন্নয়নের জন্য একটি ‘র্যাং কিং ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠনের কথাও উল্লেখ্য করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে সবাইকে ‘টিম জগন্নাথ’ হিসেবে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, "এ ধরনের অ্যাওয়ার্ড শিক্ষকদের গবেষণায় আরো উৎসাহিত করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশকে গতিশীল করবে। তিনি উপাচার্যের নেতৃত্বে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"

সকল অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। গবেষণায় সম্পৃক্ততা বাড়াতে পর্যাপ্ত সময় ও প্রণোদনা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বক্তারা আরো বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অনেকাংশে শিক্ষকদের গবেষণা ও সাইটেশনের ওপর নির্ভরশীল। তাই ভবিষ্যতে ‘অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, ‘বেস্ট আর্টিকেল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার চালুর আহ্বান জানান তারা। উন্নত বিশ্বের মতো এ ধরনের পুরস্কার গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এবং আন্তর্জাতিক র্যাং কিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।"

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক জানান, "সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হবে।"

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষকবৃন্দ।