টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিস্তির্ণ জনপদ এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ ভয়ঙ্কর অন্যান্য মাদকদ্রব্য। হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরনের মাদকদ্রব্য। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। বাদ যাচ্ছে না নারী ও শিশুরাও। এসব মাদকদ্রব্য বেচা-কেনায় জড়িত রয়েছে ২০-২৫ জনের মাদক কারবারি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের একচেটিয়া মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে চিহ্নিত মাদকসম্রাট শফিকুল ইসলাম, মাসুদ, যাদব ও রোকন শরীফসহ আরও অনেকে। থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার মদদে মাদক কারবারিরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কেউ প্রতিবাদ বা মাদক কারবারে বাঁধা দিলেই হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এর ফলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা ও মাদক কারবারীদের হামলা-মামলার ভয়ে স্থানীয়রা কেউ তাদের প্রতিরোধ বা বাঁধা দেওয়ারও সাহস পায়না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কম-বেশি মাদক বেচা-কেনা হলেও সবচেয়ে বেশি হয় আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিস্তির্ণ জনপদের বিভিন্ন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাট-বাজার, মেঠোপথ এমনকি ফসলের মাঠেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা ও গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। 

দিবারাত্রি হাত বাড়ালেই মিলছে এসব মাদক। এতে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। জড়িয়ে পড়ছে নারী ও শিশুরাও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেই দলীয় নেতাকর্মীর ছত্রছাঁয়ায় ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মরণ নেশা ইয়াবাসহ অন্যান্য ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী শিকদার পাড়া নিবাসী চিহ্নিত ও কুখ্যাত মাদকসম্রাট শফিকুল ইসলাম, বেলতলীর শেখের চালা নিবাসী মাসুদ, আজগানা হিন্দুপাড়া নিবাসী যাদব ও তরফপুর ইউনিয়নের তেলিনা গ্রামের রোকন শরীফসহ আরও অনেকে। উপজেলার চিতেশ্বরী শিকদার পাড়াসহ বিভিন্নস্থানে পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই মরণ নেশা ইয়াবা ও গাঁজা বেচা-কেনা ও মাদকসেবন চলছে। দিবারাত্রি বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে গাঁজার গন্ধ। মাদকাসক্তির কারণে ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে উপজেলার যুবসমাজসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। 

মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না নারী ও শিশুরাও। এতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সংঘাত সহিংসতা। মাদক নিয়ে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডা, হাতাহাতি এখন নিত্যঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য ও সেবনকারীদের হামলায় খুনখারাবির ঘটনাও ঘটছে। নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।

স্থানীয়রা আরও জানান, কুখ্যাত মাদকসম্রাট শফিকুল ইসলাম, মাসুদ, যাদব ও রোকন শরীফসহ ২০-২৫ জন মাদক কারবারি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। কেউ মাদক কারবারিদের বাধা দিলে হামলা-মামলা দিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগী একাধিক বাসিন্দা।

অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের মাসিক মাসোহারার বিনিময়ে এসব মাদক কারবারীকে নেপথ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন মির্জাপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রাহাত আকন্দ ও আরও কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, রাজনৈতিক দলের ইন্ধন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার সুযোগেই দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মরণ নেশা ইয়াবা ও গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকের বিস্তার ঘটছে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকার সমর্থিত নেতৃবৃন্দকে আরও কঠোর হতে হবে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আদনান মুস্তাফিজ বলেন, মাদক নির্মূলসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চলছে। এতে কোন অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই একাধিক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের দিক-নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে যদি কোনো পুলিশের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান মির্জাপুর সার্কেল পুলিশের এই কর্মকর্তা।