লালবাগ থানা বিএনপির কমিটিতে চাঁদাবাজ ও মাদক সম্রাট’ আমিনকে আহ্বায়ক করায় ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আওতাধীন লালবাগ থানা বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে আজিমপুর কবরস্থানে দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিস্কৃত নেতা চিহ্নিত ‘চাঁদাবাজ ও মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আমিনুল ইসলাম আমিনকে আহ্বায়ক ও বদিউল আলম সুইটকে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক করায় ক্ষোভে ফুঁসছে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া নবগঠিত এ কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী অনুসারীদের যুক্ত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনগণ। একই সাথে বিতর্কিত ব্যক্তিদের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জেরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন তারা। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) লালবাগ এলাকায় আয়োজিত এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ থেকে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এই দাবি জানান।

দলটির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও স্থানীয় ​বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, আমিনুল ইসলাম আমিন ও বদিউল আলম সুইটের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপকর্মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ এলাকার সরু পথের দুই পাশের ফুটপাতে বাজার ও ফাস্ট ফুডের দোকান বসিয়ে দেদারসে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র যানজটের কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবী সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, আজিমপুর কবরস্থান রোডের উভয় পাশে ও পলাশী বাজারও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের অত্যাচার ও জুলুম-নিপীড়ণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয় জনগনসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ফুটপাতের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো, দখল-চাঁদাবাজির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন ও বদিউল আলম সুইট। নিয়মিত তাদেরকে চাঁদা না দিয়ে কোন হকার বা ক্ষুদ্র ফট দোকানিদের কেউ এখানে ব্যবসা করতে পারে না। তাদের নির্দেশেই ফুটপাতের শতাধিক দোকান থেকে শ্রেণীভেদে দোকানপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ করে নিয়মিত চাঁদা তুলছেন সুইটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চিহ্নিত ও পেশাদার মাদক কারবারি গাঁঞ্জুট্টি ফারুক, জালাল, ইউসুফ, মুক্তার ও কাউসার। একই সঙ্গে স্বামী সুইটের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে তার সহধর্মিণী (স্ত্রী) আজিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় ফ্ল্যাটে দেহ ব্যবসা, মাদক কারবার, ফিটিং, চাঁদাবাজি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের লালবাগ থানা বিএনপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ দায়িত্বে নিয়ে আসায় দলটির ত্যাগী নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

​সমাবেশে অংশ নেওয়া দলের পদ বঞ্চিত ত্যাগী নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের হাত ধরে এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজি প্রসারিত হয়েছে, তাদের পকেট কমিটির মাধ্যমে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে।

এছাড়া নবগঠিত এ কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী অনুসারীদের যুক্ত করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনগণ।

তারা জানান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাদের বাদ দিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে এই বিতর্কিত কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন। একই সাথে বিতর্কিত ব্যক্তিদের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জেরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) লালবাগ এলাকায় আয়োজিত এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ থেকে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এই দাবি জানান।

লালবাগ থানা বিএনপির কমিটিতে চাঁদাবাজ ও মাদক সম্রাট’ আমিনকে আহ্বায়ক করায় ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

দলটির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও স্থানীয় ​বিক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, আমিনুল ইসলাম আমিন ও শাহবাগের সাবেক কমিশনার খাজা হাবিবকে যৌথ বাহিনির সদস্যরা ১/১১ এর সময় আজিমপুরের নতুন পল্টন লাইনের ইরাকী কবরস্থানের ভেতর ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার করেছিলো। আজিমপুর কবরস্থানসহ আশপাশের এলাকায় দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপকর্মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় তৎকালীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের নির্দেশক্রমে ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারী যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) সাইদুর রহমান মিন্টু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমিনের সাথে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগসহ সকল কার্যক্রম থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ইতোপূর্বে বিভিন্ন অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে লালবাগ থানা বিএনপির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষ দায়িত্বে নিয়ে আসায় দলটির ত্যাগী নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

​সমাবেশে তারা আরও বলেন, নবগঠিত এ কমিটিতে যুক্ত করা সোহায়েল হামজা সোহাগ, মোহাম্মদ খায়ের উদ্দীন সেন্টু কট্টর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ থেকে আগত। ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরে নিজেদের আওয়ামী রাজনৈতিক দলের পরিচয় গোপন রেখে লেবাস পাল্টে বিএনপির ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে কমিটিতে পদ বাগিয়ে নিয়েছেন নুরুন্নবী সোহেল, মীর তারেক আলী, আশরাফ হোসেন, কায়সার কিবরিয়া তুষার, শাকিল আহমেদ, আলহাজ্ব ইকবাল হোসেন ও নাসির উদ্দিন নাসির।

স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, কমিটি ঘোষণার আগে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই না করেই নিজেদের স্বার্থরক্ষায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী অনুসারীদের দলে ঠাঁই দিয়ে মনগড়া পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এতে অদুর ভবিষতে লালবাগ থানা বিএনপিতে ঐক্যের পরিবর্তে ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান স্থানীয়রা। আর সেই সুযোগটি লুফে নিবে প্রতিপক্ষ ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ থেকে​বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে এই পকেট কমিটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। অন্যথায় লালবাগের সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। একই সাথে অনৈতিকভাবে এই কমিটি দেওয়ার অপরাধে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা মজনু ও রবিনের দ্রুত পদত্যাগ দাবি করেন দলটির পদ বঞ্চিত তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন ও বদিউল আলম সুইটের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ ফোন ধরেননি। ফলে তাদের কারও কোনো বক্তব্য মেলেনি।

​এ বিষয়ে জানতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দলটির নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের অনেকেই বলেছেন, বিতর্কিত ও অপরাধে জড়িতদের দলে ঠাঁই দেওয়া হবে না। কোথাও অনিয়ম হলে প্রয়োজনে যাচাই-বাছাই করে নতুনভাবেও কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক দলের বিতর্কিত ব্যাক্তিদের বাদ দিয়ে সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত করতে ক্লিন ইমেজধারী ত্যাগী নেতাদের দলের বিভিন্ন পদে পরিবর্তন আনা হবে। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলেও জানান দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।