এবার ফুটবল বিশ্বকাপে নতুন নিয়ম আনল ফিফা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিদের মানিয়ে নিতে হবে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়মের সঙ্গে। সময় নষ্ট রোধ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং খেলার গতি ধরে রাখতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এবার ফিফার তরফ থেকে ৮টি নতুম নিয়ম আনা হয়েছে। যেগুলি সকলকেই জেনে রাখা উচিত। না জানা থাকলে ম্যাচ চলাকালীন আনন্দ ও রোমাঞ্চ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন আপনি।

১। কোনো খেলোয়াড়কে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মাঠ থেকে বের হওয়ার জন্য তিনি সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড সময় পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ ত্যাগ করতে ব্যর্থ হলে তার পরিবর্তে নামা খেলোয়াড়কে আরও এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। খেলার গতি বজায় রাখতে এবং সময় নষ্ট করা বন্ধ করতে এই নিয়ম আনা হয়েছে।

২। থ্রো-ইনের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। থ্রো-ইন নিতে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে বলের দখল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে।

৩। এবার আরও বাড়ানো হচ্ছে VAR-এর ক্ষমতা। এই নিয়ম অনুযায়ী, ভুল কর্নার দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) হস্তক্ষেপ করতে পারবে। অর্থাৎ, আক্রমণভাগের কোনো খেলোয়াড়ের পায়ে শেষ স্পর্শ লেগে বল বাইরে যাওয়ার পরও যদি রেফারি কর্নার দিয়ে থাকেন, তবে ভিএআর হস্তক্ষেপ করে সেই ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে পারবে। গোল হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেট-পিসের ক্ষেত্রে রেফারিং যেন নিখুঁত হয়, সেটাই এই নিয়মের উদ্দেশ্য।

৪। খেলার সময় কোনো ফুটবলার আহত হলে তার চিকিৎসা মাঠের বাইরে করা হবে। গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কোনো খেলোয়াড় মাঠের ভেতরে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। চিকিৎসা নেওয়া যেকোনো খেলোয়াড়কে পুনরায় খেলায় ফেরার আগে অন্তত ১ মিনিট মাঠের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। কৌশলগতভাবে সময় নষ্ট করার জন্য খেলোয়াড়দের মিথ্যে বা অতিরঞ্জিত ইনজুরির অভিনয় করা বন্ধ করাই এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য।

৫। এখন থেকে একজন গোলকিপার গোল কিক নেওয়ার জন্য মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে কিক না নিলে রক্ষণভাগকে পুনরায় গোল কিক নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বদলে প্রতিপক্ষ দলকে একটি কর্নার কিক উপহার দেওয়া হবে।

৬। ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড়কে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড (রেড কার্ড) দেখানো হবে। খেলোয়াড়দের মধ্যে সুখেলোয়াড়সুলভ মনোভাব (স্পোর্টসম্যানশিপ) বজায় রাখা এবং রেফারি ও সহকারী রেফারিদের সাহায্য করাই এই নিয়মের উদ্দেশ্য।

৭। পেনাল্টি কিক নেওয়ার সময় অন্য কোনো খেলোয়াড় বল স্পর্শ করার আগে যদি কিক নেওয়া খেলোয়াড় নিজেই ভুলে পরপর দু’বার বল স্পর্শ (ডাবল টাচ) করে ফেলেন, তবে অফিশিয়ালরা এখন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবেন। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গোলটি বাতিল না করে পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

৮। রক্ষণভাগের শেষ খেলোয়াড় (লাস্ট ম্যান) যদি লাল কার্ড পাওয়ার মতো কোনো ফাউল করেন, কিন্তু আক্রমণভাগের দল ফাউল সত্ত্বেও আক্রমণ বজায় রেখে সফলভাবে গোল করতে সক্ষম হয় (অ্যাডভান্টেজ পায়), তবে রেফারি পরিস্থিতিটি পর্যালোচনা করবেন। এই ক্ষেত্রে ফাউল করা খেলোয়াড়ের লাল কার্ডের শাস্তি কমিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমনকি সম্পূর্ণ বাতিলও করা হতে পারে।