হাবীব জুয়েল, রাজশাহী রাজশাহী মহানগরীকে শিক্ষা নগরী হিসেবে বিবেচিত করা। সেই লক্ষ্যে রাজশাহী বর্তমান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাজশাহী গড়ার লক্ষ্যে তিনি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তার নির্দেশনায় আরএমপি নিয়মিত বিশেষ সফল অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে।
অনস্বীকার্য যে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী মানবিক কাজের নজীর রাখছেন এবং রেখে চলেছেন । কেউ প্রাকাশ্যে কেউ অগোচরে।
কিন্তু এরই মধ্যে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহিদ হাসানের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে মহানগর ব্যাপী। ইতিমধ্যে সংবাদটি বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট মিডিয়ায় স্থানীয় ও জাতীয় গনণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭/০৬/২০২৬ রোববার দুপুর আনুমানিক ১২:২০ টার সময় রোকনুজ্জামান রকি নামের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা মোটরসাইকেল যোগে তার অসুস্থ স্ত্রীকে দেখার জন্য তার বোনকে নিয়ে যাচ্ছিলেন রাজশাহী মহানগরের সিএনবি মোড়ে অবস্থিত পদ্মা ক্লিনিকে। এ সময় জাহিদ হাসান ব্যাংক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানকে সিগনাল দিয়ে থামতে বলেন। সার্জেন্টের কথামত সেই সময় ব্যাংক কর্মকর্তা রকি দাঁড়িয়ে যান এবং ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহিদকে জানান তার স্ত্রী অসুস্থ পদ্মা ক্লিনিকে রয়েছে তিনি সেখানেই যাচ্ছেন। তারপরও সার্জেন্ট জাহিদ ব্যাংক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান সকল প্রকার আপ টু ডেট কাগজ দেখান।
এসময় ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহিদ বলেন আপনার মোটরসাইকেলে হেলমেট আছে তারপরও হেলমেট পরেননি কেন ? এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তার রোকনুজ্জামান জানান - ভাই আমার হাই প্রেসার বিধায় কয়েক মিনিটের জন্য হেলমেট খুলে মোটরসাইকেলই রেখেছি। ব্যাংক কর্মকর্তা রকি এও জানান আপনি যেখানে ডিউটি করছেন এখানে পদ্মা ক্লিনিক এই কারণে আরো বিশেষ করে আমি হেলমেটটি খুলে ক্লিনিকে ঢুকবো বলে মনে করছিলাম।
এক পর্যায়ে সার্জেন্ট জাহিদ হাসান উত্তেজিত হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রোকনুজ্জামানের সাথে এবং রোকনুজ্জামানের সাথে অশালীন ব্যবহার করেন এবং মামলাও দিন। এদিকে রোকনুজ্জামান প্রশ্ন করেন - আমার কাছে গাড়ির সকল প্রকারের আপটুডেট কাগজ রয়েছে হেলমেট রয়েছে তারপরও কেন আপনি আমাকে মামলা দিচ্ছেন? এ কথায় সার্জেন্ট জাহিদ হাসান আরোও বেশি ক্ষ্রিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এদিকে ব্যাংক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান - আমার কাছে সকল প্রকারের আপটুডেট কাগজ রয়েছে হেলমেট রয়েছে এবং আমার মোটরসাইকেলে আমার বোন থাকা অবস্থায় সার্জেন্ট জাহিদ হাসান যে অমানবিক ব্যবহার করেছেন এতে আমি স্তম্ভিত। সার্জেন্ট জাহিদ হাসানের থাকা সাথে থাকা আরো একজন কনস্টেবল আমাকে সাইডে ডেকে নিয়ে ৫০০ টাকা দাবি করেন এতে আমি অসম্মতি জ্ঞাপন করলে আমার কাছে সব কিছু থাকা সত্ত্বেও আমাকে মামলা দেওয়া হয়। আমি দাবী জানাচ্ছি অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উক্ত বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট জাহিদের সাথে যোগাযোগ করে প্রশ্ন করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে জানান রকির কাছে হেলমেট কাগজপত্র সবই ছিল। তারপরও কেন মামলা দিলেন এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান সার্জেন্ট জাহিদ।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ভুক্তভোগীকে অভিযোগ করতে বলুন। বিষয়টি নিয়ে আপনারা কোন ব্যবস্থা নিবেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন অভিযোগ না দিলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব না।
পুরো ঘটনাটি নিয়ে সুশীল সমাজে উঠেছে নানান প্রশ্ন। বিধায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর অ্যাক্টিভিস্ট ও বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি এবং এই রাজশাহী মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিব জুয়েল জানান - মাননীয় আইজিপি সাহেব পুলিশকে জনবান্ধব গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছেন সেই সাথে রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানোর জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কাজ করছেন কিন্তু উক্ত ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক।