১৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে গুম ফেরত  শামস্ সাদ মাহামুদ পলাশকে চান এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউমার্কেট থানা এলাকার ১৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক বিএনপির অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক গুম ফেরত শামস্ সাদ মাহামুদ (পলাশ)-এর নাম আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও তৃণমূল পর্যায়ের বেশকয়েকজন কর্মীর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকার কারণে শামস্ সাদ মাহামুদ পলাশকে তারা ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে দেখতে আগ্রহী।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শামস্ সাদ মাহামুদ পলাশ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের কঠিন সময়েও তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে না গিয়ে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

গুম থেকে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্যে শামস্ সাদ মাহামুদ পলাশকে ‘গুম থেকে ফিরে আসা’ একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তাঁদের দাবি, নিখোঁজ থাকার মতো কঠিন পরিস্থিতির পরও তিনি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন।

তবে গুম, নির্যাতন ও কারাবরণের বিষয়ে যেসব তথ্য স্থানীয়রা উল্লেখ করছেন, সেগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য বিস্তারিত তথ্য ছাড়া সেগুলোকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দলীয় সূত্র ও তাঁর জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, শামস্ সাদ মাহামুদ পলাশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটে বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব দায়িত্বের মধ্যে সাবেক সহ দফতর সম্পাদক অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপি, বৃহত্তর ধানমন্ডি থানা ছাত্রদল সভাপতি। 

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কাজে লাগানোর সুযোগ পেলে তিনি এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের ভাষ্য, ১৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্নতা, মশা নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তাঁদের প্রত্যাশা, যে প্রার্থীই নির্বাচিত হন না কেন, তিনি যেন দল-মত নির্বিশেষে ওয়ার্ডের সব বাসিন্দার নাগরিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন।

নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তাঁর ত্যাগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় এনেছে। তাঁরা দলের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে তাঁর বিষয়টি বিবেচনার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর মতে, যেকোনো নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রার্থীর যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তাঁদের বক্তব্য, ১৮ নং ওয়ার্ডে প্রার্থী নির্ধারণের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হলে মাঠপর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত ১৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে কে প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি যে প্রার্থীই নির্বাচিত হোন, তিনি যেন ১৮ নং ওয়ার্ডের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নাগরিক সেবা, এলাকার উন্নয়ন এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।