এবার সাংবাদিক পেটালেন সাংবাদিক সংগঠন দখল করতে চাওয়া সেই ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার

পলি আক্তার, জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গতকাল সংঘর্ষের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক আজকালের খবরের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কায়েস। জবি শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

কায়েস বলেন, “আমার দোষ ছিল সংবাদ সংগ্রহ করা। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে নয়, একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই হামলার শিকার হয়েছি।”

তিনি জানান, গলায় প্রেসকার্ড থাকা সত্ত্বেও তাকে মারধর করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, জবি ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার সংবাদ সংগ্রহের সময় তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে মাহমুদ, রবিন মিয়া শাওন, শিহাব, মুশফিকুর রাইনসহ আরও ২০–২৫ জন তাকে মারধর করেন। এতে তার মাথা, চোখ ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে, চশমা ভেঙে যায় এবং তার মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ওই সময় মোবাইলের ক্যামেরা চালু থাকায় পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হয়েছে।

কায়েস আরও দাবি করেন, হামলার স্থান রফিক ভবন ও উপাচার্য ভবনের মধ্যবর্তী এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পাশাপাশি তার নিজের মোবাইলে ধারণ করা প্রায় ৪০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজেও ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষিত আছে।

হামলার পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার এবং পরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা মাথায় আঘাতের কারণে সিটি স্ক্যান করিয়ে দ্রুত নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

কায়েস বলেন, “আমি সব ঘটনার বিচার চাই। সাংবাদিকদের ওপর হওয়া প্রতিটি হামলার বিচার চাই। প্রয়োজন হলে বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দেখে আমার কাছে থাকা সব ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করব।”

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি থাকা সত্বেও সুমন সরদার নামে এই জবি ছাত্রদল নেতা তার নিজের এক অনুসারী ছাত্রদল নেতাকে সেক্রেটারি পদে বসিয়ে সংগঠন দখল করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া এই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। অতীতে সুমন সরদারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চাঁদা তোলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২২ মার্চ আজমেরী পরিবহনের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।