লোডশেডিং নিয়ে ভয়াবহ পূর্বাভাস

মাঝারি তাপমাত্রার আবহাওয়া বিরাজ করলেও সারা দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে অনেক ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার আগে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না। গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ কোথাও কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে আজ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

পাওয়ার সিস্টেমের ‘ফোরকাস্ট সিনারিও’ অনুযায়ী, রাত ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৭ হাজার ১৪০ মেগাওয়াটে। ওই সময়ে উৎপাদনের পূর্বাভাস রয়েছে ১৪ হাজার ৩১৭ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ পিএলসি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে এ পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে গ্যাসের তীব্র সংকটের সময়ও লোডশেডিং ঘণ্টায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এবার শুধু গ্রাম বা মফস্বল নয়, রাজধানীর বাসিন্দারাও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে পড়ছেন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় ঢাকার ডেসকো এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৯৬ মেগাওয়াট, বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ১২০ মেগাওয়াট। ডিপিডিসি এলাকায় ১ হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ১৬৫ মেগাওয়াট।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতিও বাড়তে পারে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ২৬৮ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পর সন্ধ্যা ৭টায় তা বেড়ে ১ হাজার ৮ মেগাওয়াটে দাঁড়াতে পারে। রাত সাড়ে ৭টায় ১ হাজার ৭০৪ মেগাওয়াট এবং রাত ৮টায় ১ হাজার ৭৪৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, রাত ৯টায় লোডশেডিং আরও বেড়ে ২ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াটে এবং রাত ১০টায় ২ হাজার ১৬ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর রাত ১১টায় দিনের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে।