ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান সবুজের (বিপি নং৯৫২০২২৫৯৫৩) বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ, জুয়ার আসর থেকে অর্থ আদায়, ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সিএনজি স্ট্যান্ড, দোকানপাট, মাদক ব্যবসা এবং কথিত উদ্ধার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের বিষয়।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ বিভাগে রদবদলের সময় জাহিদ হাসান সবুজ কামরাঙ্গীরচর থানায় যোগদান করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলা এবং মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে তিনি নিজেই চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলে তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

কামরাঙ্গীরচর থানাধীন খোলামোড়া ঘাট এলাকার সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে মাসিক পাঁচ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এসআই জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, রমজান নামের এক চালকের মাধ্যমে খোলামোড়া ঘাট থেকে ঠোঁটা ঘাট পর্যন্ত সিএনজি লাইন পরিচালিত হয়। ওই লাইন থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া খোলামোড়া ঘাট থেকে কিল্লার মোড় পর্যন্ত চলাচলকারী সিএনজি লাইনের লাইনম্যান লোকমানের কাছ থেকে মাসিক চার হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এসব অর্থ আদায়ের সঙ্গে এসআই জাহিদ হাসানের সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়েছে।

কামরাঙ্গীরচরের আবু সাঈদের ভিটা বাজার এলাকায় পুলিশ বিট অফিসের গলিতে অবস্থিত একটি রিকশার গ্যারেজে প্রতিদিন জুয়ার আসর বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্যারেজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সোহেল নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই আসর পরিচালিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখান থেকে প্রতি সপ্তাহে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। সে হিসাবে মাসে প্রায় ১২ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এসআই জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে।

কামরাঙ্গীরচরের খালপাড় কবরস্থানের পাশে হোন্ডার মেরামত ও যন্ত্রাংশের দোকান, অটোরিকশা কারখানা এবং আশপাশের অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘিরেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় প্রায় ৪০টি দোকান থেকে প্রতিটি দোকানের জন্য মাসিক এক হাজার ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। সেই হিসাবে ৪০টি দোকান থেকে মাসে মোট ৬০ হাজার টাকা আদায়ের দাবি করা হয়েছে। রুবেল নামের এক হোন্ডা মেকানিক ও যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন ব্যক্তিকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে চুক্তির মাধ্যমে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে হাতকড়া পরানোর পর তাঁদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কামরাঙ্গীরচর থানার বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা এবং তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের ঘটনাও রয়েছে।

কামরাঙ্গীরচরের চাঁন মসজিদ রোড এলাকার হাসি বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে এসআই জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে।

এসআই জাহিদ হাসান সবুজ নিজেও মাদক সেবন করেন এবং বাংলা মদে আসক্ত—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহার ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তবে ঘটনাগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।