নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে গৃহবধূকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নুরের (২২) বিরুদ্ধে। ঘটনার নয় দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার মাকে মারধর করেন। একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিফাতুন চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতেন।

সিফাতুনের বাবা মো. নুরের দাবি, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রচার করা হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।