আজ ফুটবল সম্রাট পেলের জন্মদিন, এই দিনে জানুন তার অধরা সকল রেকর্ড

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু নাম আছে, যাদের কীর্তি সময়ের সীমানা পেরিয়ে বেঁচে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। পেলে তেমনই এক কিংবদন্তি। তিনটি বিশ্বকাপজয়ী এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা শুধু গোল করেই দর্শকদের মুগ্ধ করেননি, বদলে দিয়েছিলেন ফুটবলকে দেখার ধরনও। আজ ২৩ অক্টোবর তার জন্মদিন।

ফুটবল মাঠের জাদুকর পেলের জীবন থেকে জানা যাক অজানা তথ্য-

১। পেলের পুরো নাম এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। মার্কিন উদ্ভাবক থমাস এডিসনের নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তার নাম রাখা হয়েছিল এডসন। তবে এই নামের চেয়ে ‘পেলে’ ডাকনামেই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান।

২। আজ যে নামে তাকে চেনে গোটা বিশ্ব, শৈশবে সেই ‘পেলে’ নামটি নাকি তার খুব একটা পছন্দ ছিল না। সহপাঠীদের দেওয়া এই ডাকনামই একসময় হয়ে ওঠে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি।

৩। শৈশবে বন্ধুদের নিয়ে গঠিত পেলের প্রথম ফুটবল দলটির নাম ছিল ‘দ্য শু-লেস ওয়ানস’ (জুতোহীন দল)।

৪। পেলের বাবা এক ম্যাচে হেডে ৫টি গোল করেছিলেন। পেলে ক্যারিয়ারে অনেক গোল করলেও এক ম্যাচে হেডে ৪টির বেশি গোল করতে পারেননি!

৫। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দেন পেলে। ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে করেন দুটি গোল। ব্রাজিলও প্রথমবারের মতো জেতে বিশ্বকাপ। কিশোর পেলের সেই পারফরম্যান্স তাকে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় নিয়ে আসে।

৬। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ এই তিনটি বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন পেলে। এখন পর্যন্ত খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি আর কেউ গড়তে পারেননি। এই অর্জনই তাকে ফুটবল ইতিহাসের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

৭। ফার্স্ট-ক্লাস ফুটবলে সর্বমোট ১ হাজার ২৮৩টি গোল করেছেন পেলে, যার মধ্যে ৭৭টি এসেছে জাতীয় দলের জার্সিতে।

৮। পেলের গোলসংখ্যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। প্রীতি ও অনানুষ্ঠানিক ম্যাচসহ তার ক্যারিয়ারে ১ হাজার ২৮৩ গোলের হিসাব প্রায়ই উল্লেখ করা হয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের গোলসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তার আন্তর্জাতিক গোল ৭৭টি।

৯। ১৯৬৪ সালের ২১ নভেম্বর সান্তোসের হয়ে বোতাফোগোর বিপক্ষে ১১-০ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয়ে একাই ৮টি গোল করেছিলেন তিনি।

১০। ক্যারিয়ারে অবিশ্বাস্য ৯২টি হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। ৩১ ম্যাচে ৪টি করে, ৬ ম্যাচে ৫টি করে এবং ১টি ম্যাচে ৮ গোল করেছেন।

১১। ১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর পেনাল্টি থেকে ক্যারিয়ারের হাজারতম গোল করেন পেলে। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে মারাকানা স্টেডিয়ামে পাওয়া সেই গোলকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল আবেগঘন মুহূর্ত। ঐতিহাসিক কীর্তির সাক্ষী হতে সমর্থকেরা মাঠে নেমে পড়েছিলেন।

১২। ১০০০তম গোল পেনাল্টিতে করলেও পেলে মনে করতেন, ‘পেনাল্টি থেকে গোল করাটা গোল করার সবচেয়ে কাপুরুষোচিত উপায়!’

১৩। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে পেলে এবং কিংবদন্তি গারিনচা যখন একসঙ্গে মাঠে খেলেছেন, ব্রাজিল কখনো কোনো ম্যাচ হারেনি।

১৪। ১৯৭৭ সালে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন পেলে। বিদায়ী সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে মাঠে নামেন তিনি, আর দ্বিতীয়ার্ধে পরেন নিজের সাবেক ক্লাব সান্তোসের জার্সি। দুই দলের হয়ে খেলে ফুটবলকে বিদায় জানান ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই কিংবদন্তি।

১৫। ইউরোপীয় ধনকুবের ক্লাবগুলো যাতে তাকে কিনে নিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য ১৯৬১ সালে ব্রাজিল সরকার পেলেকে ‘অফিশিয়াল জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে ঘোষণা করে!

১৬। ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) পেলেকে ‘অ্যাথলেট অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে নির্বাচিত করে।

১৭। ১৯৬৭ সালে নাইজেরিয়া সফরের সময় এই ফুটবলসম্রাটের খেলা দেখার জন্য দেশটির গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে থাকা সরকারি ও বিদ্রোহী বাহিনী টানা ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল!

২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে মারা যান পেলে। তবে তার বিদায়ে শেষ হয়নি কিংবদন্তির গল্প। বিশ্বকাপের শিরোপা, অসংখ্য গোল, অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য আর ফুটবলে রেখে যাওয়া অবদানের কারণে আজও কোটি মানুষের স্মৃতিতে অমর হয়ে আছেন তিনি।