করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট ও অর্থআত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) ডা. সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের একটি দল তাকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

গ্রেফতারের পর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের ডা. সাবরিনা আরিফকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক এক অফিস আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সরকারের অনুমতি ব্যতীত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত থাকাসহ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ভঙ্গের কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। 

উল্লেখ্য, প্রতারণার অভিযোগে ২৪ জুন জেকেজি হেলথকেয়ারের নমুনা সংগ্রহের অনুমোদন বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জেকেজি’র অনুমোদন বাতিইল করা হয়।

এর আগে করোনাভাইরাস টেস্টের নকল রিপোর্ট সরবরাহের অভিযোগে জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির ৩ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে ডিএমপি।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৬ এপ্রিল করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের অনুমোদন পায় জেকেজি হেলথকেয়ার। কিন্তু “কিওস্ক” স্থাপন এবং অন্যান্য অনুমতি পেতে পেতে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

অভিযোগ ওঠে, নমুনা জমা দেয়ার জন্য কিওস্কের প্রবেশ করার পর এক ব্যক্তি এসে নমুনা সংগ্রহ না করে আগতদের নাম ঠিকানা নিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে জেকেজির থেকে ফোন করে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার ফলাফল সংগ্রহ করতে বলা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, অনুমোদনের চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যক নমুনা তারা প্রতিদিন সংগ্রহ করেছেন জেকেজির কর্মীরা। তারা এতোটাই বেপোরোয়া হয়ে উঠেছিলেন যে একদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মহাপরিচালকের সামনেই তারা দুর্ব্যবহার করেন।

প্রতিষ্ঠানটির এই দুর্নীতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে মহাপরিচালক নিজে তাদেরকে সীমিত সংখ্যক নমুনা সংগ্রহের কথা বলেন। কিন্তু তাতেও তারা কর্ণপাত করেননি।