রাবি প্রতিনিধি :

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় বিএনপি–জামায়াতের সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় এবং দেশব্যাপী চলমান হামলা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবির।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১২টায় জোহা চত্বরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হলের সামনে দিয়ে ঘুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এগিয়ে যায়।

এসময় শিবিরের নেতা-কর্মীদের “নেতায় করে খাম্বা চুরি, কর্মী মারে গলায় ছুরি”, “সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এ বাংলায় হবে না”, “চাঁদাবাজের ঠিকানা এ বাংলায় হবে না”, “তারেক বাহিনীর ঠিকানা এ বাংলায় হবে না” এবং “বিএনপির অনেক গুণ, নির্বাচনের প্রথম খুন”—ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি শেরপুরের শ্রীবরধী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ভাইকে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্তৃক হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। আমরা পাঁচ আগস্ট পরবর্তী চেয়েছিলাম এদেশে শান্তিপূর্ণ রাজনীতির চর্চা হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি বিএনপি আওয়ামী লীগের পথে হাঁটা শুরু করেছে। আমরা তারেক রহমানকে বলতে চাই আপনি যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেন, আপনাকে আওয়ামী লীগের মতোই বিতাড়িত হতে হবে। আপনি বলেছিলেন আই হ্যাভ এ প্লান,আপনার প্লান ইতি মধ্যে জাতির কাছে উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আমরা শুধু আজকে একটি হত্যার প্রতিবাদ এখানে দাঁড়াইনি, বিএনপির ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা দেখেছি কিভাবে বিএনপি আমাদের বোনদের গায়ে হাত দিয়েছে। আমরা বলতে চাই আপনার আবার আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছেন আপনাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতোই হবে আপনাদের কেউ শেয়ার করতে চাই, আপনারা যদি সংশোধন না হন তাহলে আপনাদেরকে লাল কার্ড দেখিয়ে দেশের জনগণ দেশ থেকে বিতাড়িত করবে।

সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, আমরা দেখেছি শেরপুর-৩ আসনে সকল প্রার্থী তাদের ইশতেহার ঘোষনা করছিলেন। এসময় বিএনপি তাদের উপর নৃশংস হামলা চালায় এবং তাদের হামলায় জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। আমরা ৫ই আগষ্টের পরে ভেবেছিলাম বাংলাদেশে আর খুনের রাজনীতি থাকবে না। আমরা এটাও দেখেছি কিভাবে রাজনৈতিক অন্তরকোন্দলে পাথর দিয়ে মানুষকে হত্যা করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভেবেছিলাম তারেক রহমান দেশে আসলে একটা সুষ্ঠ রাজনীতির চর্চা হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম নির্বাচনী প্রথম খুন এই তারেক রহমানের বাহিনী করেছে। আমরা এই খুনীদেরকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ এই সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে বয়কট করবে। কালকে রাজশাহীতে তারেক রহমানের একটি সমাবেশ হয়েছে আমরা এই সমাবেশ বয়কট করলাম।

বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন হল অনুষদ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।