ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের ফেনীর ছয় উপজেলা সীমান্ত এলাকাজুড়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাকারবারিরা। শুধু তাই নয়, আবাধে চলছে মাদককারবার, মানবপাচার ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম । জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ায় সচল রয়েছে ভারতীয় মোবাইলফোনের নেটওয়ার্ক। তাই চোরাকারবারি, মাদককারবারি, মানবপাচারকারী এবং সন্ত্রাসী চক্ররা অনেকটাই পুলিশের ধরাছোয়র বাহিরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাচালান, মাদক, মানবপাচারে কিং মেকার হিসেবে পরিচিত ছিল পতিত ফ্যাসিস্ট যুবলীগ নেতা জিয়াউল আলম মিস্টারে মিস্টার। যুবলীগ পরিচয় বহন করলেও মিস্টারের প্রধান পরিচয় সে পতিত গডফাদার নিজাম হাজারীর অস্ত্রাগারের রক্ষক ও সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান।
সময়ের পরিবর্তনে মিস্টার পর্দার আড়ালে চলে গেলেও নিয়ন্ত্রন এখনও চলছে তার "অপরাধের সাম্রাজ্য"। এই আপরাধের সাম্রাজ্যে সেকেন্ড ইন কমান্ড নিয়োগ দিয়েছে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুনকে।
সম্প্রতি ফুলগাজী থানায় তালিকাভুক্ত ২৩ জনচোরাকারবারি ও মানবপাচারকারীর সচিত্র তথ্য পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, শত কোটি টাকার অবৈধ মালামাল ও অস্ত্রের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এখন ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহউদ্দিন মামুনের হাতে।সীমান্তের চোরাকারবারি, মাদককারবারি, মানবপাচারকারী এবং সন্ত্রাসীচক্র থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার অবৈধ আয় আসে। এই চোরাকারবারি, মাদককারবারি, মানবপাচারকারী এবং সন্ত্রাসীচক্রের অবৈধ আয়ে মোটা অংশ চলে যায় পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগৈর সাবেক নেতাদের হাতে। এই দায়িত্ব পালন করছেন সালাহউদ্দিন মামুন। শুধু ফুলগাজী নয়, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা ছাড়াও মহাসড়কে মাদক ও চোরাচালান রুটে মুহুরীগঞ্জ হতে মোহাম্মদ আলী বাজার পর্যন্ত নির্বিঘ্নে পণ্য সরবরাহে কাজ করছে মামুন ও তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী।
এখানেই শেষ নয়, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে শালিস বাণিজ্যের বাজার বসিয়েছেন ছাত্রদলের এ নেতা। শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে বেস্ট ইন হোটেলে বসে এই কাজের নাম দিয়েছেন মুশকিলে আহসান সেন্টার।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামপুর অংশে একসময় নিয়মিত ছিনতাই-ডাকাতি করলেও সাহসের জন্য নজরে আসেন ফেনী শহরের প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার। এরপর তার পেছনে ফিরতে হয়নি। ২০১৮ সালে মনোনীত হয়ে যান ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি যা এখনো চলমান। এখন তার বয়স চল্লিশ বছর।
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে মামুন বিরোধী দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না বলে অভিযোগ করে ফেনী আওয়ামী লীগে নেতাদের সাথে মামুনের দারুণ সখ্যতা ছিল ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে গণহত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি জেলা যুবলীগের বড় নেতা জিয়াউল আলম মিস্টারের সঙ্গে। যুবলীগ পরিচয় বহন করলেও মিস্টারের প্রধান পরিচয় সে পতিত গডফাদার নিজাম হাজারীর অস্ত্রাগারের রক্ষক ও সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর মামুন খোলেন মুশকিলে আহসান সেন্টার। আওয়ামী লীগের নেতাদের নিরাপদে ফেনী হতে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিকাদারি নেন তিনি। মুশকিলে আহসান সেন্টার নামটিও তিনি নিয়েছেন সন্ত্রাসী মিস্টার হতে। পতিত আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসকের ১৫ বছর এ নামে একইভাবে লুটপাটে যুক্ত ছিলেন মিস্টার। ফেনি জেলার বিএনপির ত্যাগী নেতাদের কোনঠাসা করে পতিত আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসদের মত ফেনীর নিয়েন্ত্রন করছে সালাহউদ্দিন মামুন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মহিপালে অস্ত্র হাতে হামলায় অংশ নেওয়া অন্তত ৩০ জনের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। এই অস্ত্রধারী এবং হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের কেউ গ্রেপ্তার হননি। বরং দেশে–বিদেশে থাকা নেতা–কর্মীরা ফোনে, ভিডিও কলে একে অন্যের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিজাম হাজারীর ঘনিষ্ঠরা ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছাত্র–জনতার ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার দিন পিস্তল, রাইফেল, শটগান ও বন্দুক নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি করেছেন। সেদিন নিজাম হাজারীর ক্যাডারদের হাতে এম–১৬ রাইফেলও ছিল বলে ফেনীতে প্রচার আছে। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।
স্থানীয় রাজনীতিকদের কারও কারও ভাষ্য, আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়েছেন। অস্ত্রগুলো নিশ্চয় সঙ্গে নিয়ে যাননি। তাহলে অস্ত্রগুলো গেল কোথায় ?
ফেনী জেলা যুবদল সভাপতি হন পতিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র হাজী আলাউদ্দিনের পিএস খোকনের ছোট ভাই জেলা ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন। গত ১৫ বছর খোকনের চাঁদাবাজি, মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল এই ছাত্রদল সভাপতি মামুন। দীঘদিনের আপরাধ জগতের বিশ্বস্ত সহচর খোকনের লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ফেনী থানায় জমা দেওয়ার নামেও গ্রহণ করেন মোট অংকের মাশহারা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সালাউদ্দিন মামুন ফোন ধরেননি। ফলে তার কোন বক্তব্য মেলেনি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজ অতি শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। কীভাবে আনা হবে সেই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চাই না। অ্যাকশন শুরু হবে শিগগির।রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তাদের যাতে অতি শিগগির আইনের আওতায় আনা হয় সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত করবো। আমাদের পরিকল্পনা এখানে ফাঁস করতে চাই না। কোনোকিছু বাদ থাকবে না, এদেরকে আইনের আওতায় আনবোই।
এ বিষয়ে জানতে থানা ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, অপরাধী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। যার যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী মানবপাচার, চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজ অতি শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। কীভাবে আনা হবে সেই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চাই না। অ্যাকশন শুরু হবে শিগগির।রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তাদের যাতে অতি শিগগির আইনের আওতায় আনা হয় সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত করবো। আমাদের পরিকল্পনা এখানে ফাঁস করতে চাই না। কোনোকিছু বাদ থাকবে না, এদেরকে আইনের আওতায় আনবোই।
এ বিষয়ে জানতে থানা ও জেলা পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, অপরাধী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। যার যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী মানবপাচার, চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
