কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) টানা ২৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মেস ও আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে চলমান পরীক্ষার প্রস্তুতিও ।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে খাবার পানি, গোসল ও ওয়াশরুমের পানি এমনকি রান্নাবান্নার জন্য প্রয়োজনীয় পানিও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে হলগুলোতে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সুনীতি শান্তি হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, '২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। আমরা পানি সংকটে ভুগছি। ওয়াশরুম ব্যবহার করা যাচ্ছে না, গোসল করা যাচ্ছে না, এমনকি খাওয়ার পানিও নেই। পড়াশোনার জন্য হলে এসেছি, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাচ্ছি না। কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে সেটাও জানি না। প্রভোস্টের উচিত ছিল আমাদের সমস্যাগুলো জানা ও অন্তত একটি আশ্বাস দেওয়া।'
বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নিলয় বলেন, 'এখন আমাদের পরীক্ষা চলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করতে পারছি না। অনেক কিছুই এখন অনলাইনভিত্তিক, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছি। প্রতিটি হলে ২-৩টি টিউবওয়েল স্থাপন এবং বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা হিসেবে সোলার সিস্টেম চালুর করা দরকার।'
আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী জয়নাব আক্তার সাইমা বলেন, 'ল্যাপটপে চার্জ নেই, মোবাইল চার্জ নেই, পানিও নেই। সামনে পরীক্ষা থাকায় বাধ্য হয়ে বন্ধুর মেসে চলে যাচ্ছি। প্রশাসন যদি অন্তত জেনারেটরের ব্যবস্থা করত, তাহলে এই ভোগান্তি হতো না।'
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা হক বলেন, 'বিদ্যুৎ না থাকায় গতকাল রাত ৯টার পর দোকানগুলোতেও খাবার পাওয়া যায়নি। আজও বিদ্যুৎ না এলে হলে খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনেকেই ইতোমধ্যে হল ছেড়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছে, কারণ কেউই জানে না কখন বিদ্যুৎ আসবে।”
শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার (বৈদ্যুতিক) মো. জাকির হোসেন জানান, “কাজ প্রায় শেষ। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আপডেট পেয়েছি। আশা করছি রাত ৯টার আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।”
