এর ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টের মধ্যে আংশিক উৎপাদন শুরু করবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। পর্যায়ক্রমে আগামী ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে যাবে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আমাদের সময়কে বলেন, বাংলাদেশের যে বিদ্যুৎ সংকট, সেখানে এ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) ফুয়েল লোডিং করার পর আমরা আশা করছি পর্যায়ক্রমে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ইউনিটের পুরো ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তাতে বিদ্যুতের সংকট অনেক কমে আসবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে কম খরচে দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ দেবে রূপপুর। দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করবে। এর অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি। দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছিল এপ্রিলের ৭ তারিখে ফুয়েল লোড করা হবে। এর পর পর্যায়ক্রমে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে মে মাসে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে বিদ্যুৎ গ্রিডে। এ সময় ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে ৩৩ শতাংশ উৎপাদন বাড়িয়ে ৩৭৫ মেগাওয়াট এবং ৪৩ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ৪৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। ক্রমান্বয়ে আগস্ট মাসে সক্ষমতার ৫৮ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে ৭৮৭ মেগাওয়াট, সেপ্টেম্বরে ৮৬ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ৯৯১ মেগাওয়াট এবং নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্থাৎ ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তবে লাইসেন্সসংক্রান্ত জটিলতায় ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম প্রায় ২১ দিন পিছিয়ে ২৮ এপ্রিল হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও প্রায় এক মাস পেছাবে।
