পলি আক্তার, জবি প্রতিনিধি

ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ সাংবাদিকের উপর হামলা'র শিকার হয়। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপর এ সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মারধর, ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে মতিঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে, গত (৪ এপ্রিল) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফকিরাপুল সংলগ্ন এলাকায় ভুক্তভোগী সাজু আহমেদ তাঁর সহপাঠী মুনতাসির নাবিদ সংগ্রামকে সঙ্গে নিয়ে টিউশনে যাচ্ছিলেন এ সময় নাদিম (২৪) ও আরিফ (২৫)-এর নেতৃত্বে '১০/১৫ জন' এর একটি দল তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও এদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, "হামলাকারীরা প্রথমে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করে তাদের মাটিতে ফেলে দেয় এবং পরে হেলমেটসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস দিয়ে আঘাত করলে তারা গুরুতর আহত হয়। এবং তার একপর্যায়ে তাদের জিম্মি করে রাখা হয়।

এই ঘটনার খবর পেয়ে উপস্থিত হন সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির। এ সময় হামলাকারীরা তার সঙ্গেও অসদাচরণ করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে, "স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবারও আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।"

এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড, হকিস্টিক ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে মারধর করে। এতে সাজু আহমেদসহ অন্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। অভিযোগে আরও বলা হয়, "হামলাকারীরা একটি ডিজিটাল মাইক্রোফোন, নেকব্যান্ড, হাতঘড়ি, নগদ ১৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয়।" পাশাপাশি থানায় অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাজু আহমেদ মতিঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে মতিঝিল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান,"অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"