কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

মোল্লাহাট(বাগেরহাট) প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও টানা তিন দিনের প্রবল বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান সহ বিভিন্ন সবজি ও ফসলি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সময়মতো কাটতে না পারায় মাঠেই পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা।

ধান কাটার মৌসুমে প্রকৃতির এমন রুদ্রমূর্তির সাথে তীব্র শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে। ৮০০ টাকার শ্রমিক এখন ১৫০০ টাকা চাচ্ছে। তার উপর পানিতে নেমে কেউ ধান কাটতে চায় না। ফলে সোনালি ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, বসতঘরসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার,মঙ্গলবার ও বুধবারের টানা বৃষ্টিতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা ধান, ভুট্টা, তিলসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ) সারেজমিনে মোল্লাহাটের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, চুনখোলা, আটজুড়ী, কোদালিয়া, গাওলা কেন্দুয়া বিলে কৃষকেরা চরম ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।

কাহালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হেদায়েত মোল্লা বলেন, ধার-দেনা করে ফসল চাষ করেছিলাম। এখন ধান,ভুট্টা,তিল সহ সকল ফসল পানির নিচে। এসকল ফসল পুরোপুরি নষ্ট হলে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হবে। এবং ঋণের বোঝা শোধ করার কোন রাস্তা নেই।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোল্লাহাট উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ৪০৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। উপজেলার কাহালপুর, গাড়ফা, বাসুড়িয়া, গিরিসনগর, আস্তাইল, শিংগাতীসহ বেশ কিছু এলাকা বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ যা এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি অফিসার মো: ইমরান হোসেন বলেন, কৃষকদের ফসল ধান অধিকাংশই পেকে গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০হেক্টর ধান পানির নিচে থাকলেও ২/১দিন পরে পানি সরে যাবে। এ অবস্থায় সুযোগ পেলেই কৃষকদের ধান কেটে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।