নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের আরেক নাম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল)। এটি শাহবাগ মোড়ে অবস্থিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভুত্থানের পর থেকেই এ হাসপাতালটির ভেতর ও বাইরে চলছে বেপরোয়া নীরব চাঁদাবাজি। শুধু তাই নয়, খোদ প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরাই ভোল পাল্টে স্থানীয় বিএনপিপন্থি নেতৃবৃন্দ ও হাসপাতালের কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যোগসাজসে অপরাধ ও অসৌজন্যমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি হাসপাতালটির এক সহকারী পরিচালককে প্রকাশ্যে টেনে-হিচড়ে লাঞ্ছিত করে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে টনক নড়ে ঊর্ধ্বতনদের। পরে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে হাসপাতালের প্রস্থোডন্টিক্স বিভাগের কর্মচারী লিফটম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রমজানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর এ ঘটনায় পরপর ৩টি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। একটিতে বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) অফিস অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমনকে সভাপতি ও বিএমইউ’র রেজিস্ট্রার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার মো. মারুফ হোসেনকে সদস্য-সচিব করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হলেও অদ্যবধি আলোর মুখ দেখেনি এ ঘটনায় গঠিত কোনো কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন।
এদিকে ভুক্তভোগীকে সেই অভিযোগ প্রত্যাহার বা তুলে নিতে নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করছে অভিযুক্ত কর্মচারী লিফটম্যান রফিকুল ইসলাম-কসাই ইকবালসহ তাদের সহযোগী ক্যাডারবাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে ও পরিবার নিয়ে প্রাণহানির শঙ্কায় রয়েছেন ভুক্তভোগী সেই কর্মকর্তা।
অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চুরির ঘটনায় কম্পিউটার অপারেটর মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটির ভেতর ও বাইরে অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় হাসপাতালের বরখাস্তকৃত কর্মচারী ইকবাল ওরফে কসাই ইকবাল ও মামুনকে নেপথ্যে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন ডা. হাসনাত আহসান সুমন। তবে তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. হাসনাত আহসান বলছেন, এ অভিযোগটি অনেক আগের। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাসপাতালের ৩টি দপ্তরে অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলাদা ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে পরে দুইটি কমিটি বাদ দিয়ে আগের কমিটিকে বহাল রাখেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিধি অনুযায়ী আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি সঠিক নয় বলেও দাবি করেন ডা. হাসনাত আহসান সুমন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে দেশের পটপরিবর্তনে বদলে যায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য শাহবাগে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতাল। হাসপাতালের ভেতর-বাইরে যুগ যুগ ধরে ঘাপটি মেরে থাকা জুলাই আন্দোলনে যুক্ত জামায়াত-বিএনপি ও এনসিপিপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের পটপরিবর্তনে হঠাৎ করেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা নানা কৌশলে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। সেই সিন্ডিকেটের একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সাবেক কমিশনার ও বিএনপি নেতা খাজা হাবিব ও অপরটির নেতৃত্বে রয়েছেন ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ফারুক। খাজা হাবিবের নেতৃত্বে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের একাংশে বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্য, লুটপাট, ফার্মেসি ও কোয়ার্টারে দখল-চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন হাসপাতালের কর্মচারী (এমএলএসএস) ইকবাল ওরফে কসাই ইকবাল। প্রায় এক বছর আগে হাসপাতালের এক চিকিৎসককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কসাই ইকবালকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেন। আধিপত্য বিস্তার, দখল-চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত প্রায় এক মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে বিএনপি নেতৃবৃন্দের তদবিরে মুচলেকায় ছাড়া পান কসাই ইকবাল। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের অভ্যন্তরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও ঠিকাদারি ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য, হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে ফ্ল্যাটের দখল পাইয়ে দিতে মোটা অংকের উৎকোচ আদায় ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ ফুল মার্কেট ও ওষুধের দোকান থেকে নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) অফিস অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান সুমনের বিরুদ্ধেও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নেপথ্যে থেকে কর্মচারি ইকবাল ওরফে কসাই ইকবাল ও চুরির অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মামুনকে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতার পাশাপাশি কলকাঠি নাড়ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএমইউ হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত পরীবাগের আবাসিক এলাকায় দখল-উচ্ছেদে ওই চক্রের রোষানলে পড়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করলেও ঝক্কি-ঝামেলা এড়াতে ভুক্তভোগীরা কসাই ইকবাল, মামুন ও রফিকুল ইসলাম রমজানসহ অন্যান্যদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তারা বলেন, ওই সিন্ডিকেট চক্রকে কারা মদদ দিচ্ছেন, কারা হাসপাতালের ভেতর-বাইরে ও পরীবাগের কোয়ার্টারে অপকর্ম চালাচ্ছে, তা হাসপাতালে কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনেকেই অবগত রয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের ভেতর-বাইরে ও পরীবাগের কোয়ার্টারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেন যুবদলের বহিস্কৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, কর্মচারী কসাই ইকবাল, রফিকুল ইসলাম রমজানসহ আরও অনেকে। নানা অনিয়মের অভিযোগে তারা চাকরি হারালেও ক্ষমতার দাপট ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে পরীবাগের আবাসিক ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাট ও বসতঘর নিজেদের দখলে রেখে বসবাস করছেন। এছাড়া সাবেক পিজি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত শাহবাগের স্টাফ কোয়ার্টারে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই বসবাস করছেন বরখাস্তকৃত লিফটম্যান রফিকুল ইসলাম রমজানসহ কয়েকজন। তারা সবাই খাজা হাবিবের ঘনিষ্ঠ সহচর। তারা দখল-চাঁদাবাজি আর কমিশন বাণিজ্যে সিদ্ধহস্ত। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরই সংঘবদ্ধ এ চক্রের রোষানলে পড়ে নানাভাবে জুলুম নিপীড়ন, অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হন হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির অন্তত ১৫-২০ জন কর্মচারী এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে। ২০২৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কসাই ইকবালের নেতৃত্বে ৮-১০ জন দুর্বৃত্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে অনেক কর্মচারীকে জিম্মি করে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না পেয়ে পরীবাগের কোয়ার্টারে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর বসতঘরে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে দখল করে নেয়। একই সঙ্গে শাহবাগ থানা পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে নানাভাবে অর্থ আদায় ও হয়রানি করেছে। পরবর্তীতে তারা সবাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই পান। কিন্তু হামলা-মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এখনও অব্যাহত রেখেছে চক্রটি। ফলে প্রাণনাশের ভয়ে কেউ এসব ঘটনার প্রতিবাদ বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সাহস পাচ্ছেন না।
এছাড়া স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ফারুকের ছত্রছায়ায় থেকে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালের কর্মচারি লিফটম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রমজান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে হাসপাতালের সহকারি পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে প্রস্থোডন্টিক্স বিভাগের লিফটম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রমজান ও কসাই ইকবালসহ তাদের লালিত ক্যাডারবাহিনী। শুধু তাই নয়, ওই কর্মকর্তাকে মারধর করে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়ে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এক অফিস আদেশে (বিএমইউ/হাসঃ/ প্রশাঃ/২০২৬/২৩৭৬) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরে গত ৩ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে ঘটনাটি তদন্তে (স্মারক নং-বিএমইউ/২০২৬/২২৯০/১(৮), বিএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) অফিস অতিরিক্ত পরিচালক (হাসঃ) ডা. হাসনাত আহসান সুমনকে সভাপতি ও বিএমইউ’র রেজিস্ট্রার অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার মো. মারুফ হোসনকে সদস্য-সচিব করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- বিএমইউ’র কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি অ্যান্ড এন্ডোডনটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার ও বিএমইউ’র প্রক্টর অফিসের সহকারী প্রক্টর ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেন প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। কিন্তু এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা নানা কৌশলে ভুক্তভোগীকে অভিযোগপত্র প্রত্যাহার বা তুলে নিতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন।
এসব বিষয়ে জানতে বরখাস্তকৃত কর্মচারী রফিকুল ইসলাম ওরফে রমজান ও কসাই ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও হাসপাতালে তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও ফোন রিসিভ না করায় তাদের কারও কোনো বক্তব্য মেলেনি।
বিএমইউ’র দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে এসব অপরাধ-অপকর্মে প্রতিষ্ঠানটির একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বহিরাগত ক্যাডারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট করতে অপরাধীদের উস্কে দিচ্ছেন হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ও গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. হাসনাত আহসানসহ আরও অনেক কর্মকর্তা। বিশেষ করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইকবাল ওরফে কসাই ইকবাল ও চুরির দায়ে গ্রেপ্তার কম্পিউটার অপারেটর মামুন এবং লিফটম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রমজানসহ তাদের সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. হাসনাত আহসান সুমন বলেন, এ অভিযোগটি শুনেছি ও দেখেছি, এটি অনেক আগের ঘটনা। এটা ঘটনা অত্যান্ত নিন্দনীয়, ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক ঘটনা। ইতোমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত লিফটম্যান রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটির পৃথক ৩টি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে ৩টি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে একই ঘটনায় গঠিত আমাকেসহ দু’টি কমিটি বাদ দিয়ে প্রথম যে কমিটি করা হয়, সেটি বহাল রাখেন কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির সঙ্গে এমনকি কাউকে বা কোনো অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, যিনি লাঞ্ছিত, মারধর-প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদাবাজির শিকার, তিনি এই প্রতিষ্ঠানেরই অত্যন্ত মার্জিত ও বিনয়ী একজন কর্মকর্তা। যেহেতু এ ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই প্রতিবেদন আদৌ জমা দেওয়া হয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। ডা. হাসনাত আহসান আরও বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। এ জন্য আমরা সবাই শক্ত ও কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এতে কারও হতাশ হওয়ার কিছুই নেই।
