বাংলাদেশে মূল রিগার্ড ব্র্যান্ডের পণ্যের পাশাপাশি এক শ্রেণির অসাধু চক্র পুরান ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে নকল গোলাপজল তৈরি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব নকল পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চকবাজার ও মৌলভীবাজার, যা ভেজাল ও নকল প্রসাধনী পণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
সূত্রের দাবি, বেগমবাজার কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত একটি কারখানায় নকল রিগার্ড গোলাপজল তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুরান ঢাকার নকল গোলাপজল উৎপাদন চক্রের অন্যতম সক্রিয় ব্যক্তি ওয়াহিদ। জানা যায়, একসময় কামরাঙ্গীরচর এলাকাতেও তার একটি গোলাপজল তৈরির কারখানা ছিল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার তৈরি নকল গোলাপজল সরবরাহ করা হয় বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে।
এছাড়া সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর ধরে এই কারখানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন যে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন নিয়ে কারখানা পরিচালনা করছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি সেখানে নকল গোলাপজল উৎপাদন হয়ে থাকে, তাহলে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি কীভাবে পাওয়া সম্ভব হলো?
জিনজিরা (কেরানীগঞ্জ) এলাকায়ও বিপুল পরিমাণ নকল রিগার্ড গোলাপজল ও কসমেটিকস তৈরির অবৈধ কারখানা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বেগমবাজার, রহমতগঞ্জ, কামালবাগ, খাজেদেওয়ান, ইসলামবাগ এবং কামরাঙ্গীরচরের বিভিন্ন গোপন কারখানায়ও এসব পণ্য উৎপাদিত হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কারখানার মধ্যে ওয়াহিদের ব্যবসা অন্যতম বড় পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রিগার্ড কেমিক্যাল ওয়ার্কসের কিছু পণ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ও অননুমোদিত রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে।
মোবাইল কোর্টের বিভিন্ন অভিযানে দেখা গেছে, কিছু কারখানায় সুগন্ধি তৈরির কাজে কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত তরল বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু পণ্যের বোতলে ‘ফুড গ্রেড’ বা ‘খাবারে ব্যবহার উপযোগী’ লেখা থাকলেও বাস্তবে সেগুলোতে কোনো প্রাকৃতিক গোলাপের নির্যাস নেই।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
সাধারণ ভোক্তা, রেস্টুরেন্ট মালিক এবং বেকারি ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রচলিত রিগার্ড গোলাপজল বা কেওড়া জল কেনা এবং খাবারে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো এবং সঠিক লেবেলিং না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে কারখানা সিলগালা, জরিমানা এবং অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো সুগন্ধি বা খাদ্য উপাদান কেনার আগে বোতলের গায়ে উল্লেখিত উপাদান, উৎপাদনকারীর তথ্য এবং INS নম্বর যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
