বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমার, দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা আনচেলত্তির

চোট, অস্ত্রোপচার, ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই আর মাঠের বাইরের হাজারো গুঞ্জন পেরিয়ে অবশেষে পর্দা নামল সেই নাটকের। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে ব্রাজিলের ফিফা বিশ্বকাপ স্কোয়াড। ভক্ত-সমর্থক ও ফুটবলারদের অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো’র তথ্যমতে, ১৩টি দেশের প্রায় ৭০০ সংবাদকর্মীর উপস্থিতিতে আনচেলত্তি যখন নেইমারের নাম উচ্চারণ করেন, তখন পুরো মিলনায়তন উল্লাস আর করতালিতে ফেটে পড়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম এবং আনচেলত্তি ব্রাজিলের কোচ হওয়ার পর এবারই প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেলেন ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

তবে নেইমারকে দলে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা নেইমারকে পুরো বছরের পারফরম্যান্স দিয়ে মূল্যায়ন করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে সান্তোসের হয়ে তার ধারাবাহিক খেলা এবং শারীরিক অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল। বিশ্বকাপে অন্যদের মতো তারও একই ভূমিকা থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক বেশি। এটা সত্যি যে কিছু পজিশনে আমরা অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিই।’

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেলেও নেইমার যে সরাসরি শুরুর একাদশে সুযোগ পাবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই সফল কোচ। আনচেলত্তি সরাসরি বলেন, ‘নেইমার বিশ্বকাপে আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তবে এখানে আপনার শুরুর একাদশে খেলার, না খেলার, কিংবা কেবল বেঞ্চে বসে কাটানোরও সম্ভাবনা আছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগপর্যন্ত নিজের শারীরিক অবস্থা আরও উন্নত করার সুযোগ তার সামনে রয়েছে।’

এখনই স্কোয়াড নিয়ে সমালোচনা করতে নিষেধ করে কোচ বলেন, ‘এটা হয়তো নিখুঁত দল হয়নি। কিন্তু এটি হবে সহনশীল, বিনয়ী ও নিঃস্বার্থ। প্রত্যেকের ভিন্ন ভাবনা থাকতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা আমিই নিই। জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তখন বোঝা যাবে আমি ঠিক করেছি নাকি ভুল।’

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

এক নজরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: আলিসন (লিভারপুল), এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও)।

ডিফেন্ডার: অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)।

মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো)।

ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত), মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।