উৎপাদিত পলিথিন বিভিন্ন ছোট-বড় ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকের মাধ্যমে ঢাকায় ও ঢাকার বাহিরে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এলাকার অলিগলি অত্যন্ত সরু হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সহজে গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এছাড়া অনেক সময় পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় সিন্ডিকেট দলবদ্ধভাবে বাধা সৃষ্টি করে বলেও জানা গেছে।
পলিথিনের এই আগ্রাসন বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে কামরাঙ্গীরচর এলাকার ব্যাটারিঘাট, মাদবর বাজার ও কয়লাঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় তিনটি বড় পলিথিন কারখানা সিলগালা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। সূত্র জানায়, এই একক অভিযানে কারখানাগুলোতে মজুদ থাকা ১০০ টনের (১ লাখ কেজি) বেশি নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, ব্যাটারিঘাট মাদবর বাজার ও কয়লাঘাট এলাকার তিনটি কারখানায় অভিযান পরিচালিত হলেও হুজুরপাড়া ও খোলামোড়া এলাকার মোতালেব হাজী, জামাল হাজী ও লিয়াকতের কারখানায় আজও কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। তারা বহাল তবিয়তে দেদারসে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করে যাচ্ছে।
এছাড়া সূত্রের দাবি, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসা করে মোতালেব হাজী চারটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এর মধ্যে একটি আলীনগরে, একটি হুজুরপাড়া এলাকার প্রধান সড়কের ওপর ছয়তলা ভবন এবং অপরদুটিও হুজুর পাড়ায় অবস্থিত।
জানা যায়, জামাল হাজী তার নিজস্ব কারখানা খোলামোড়া এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন, যার অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে। তবে লিয়াকতের কারখানা এখনও খোলামোড়া এলাকাতেই রয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় সুপারশপ ও কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও সস্তা ও সহজলভ্য বিকল্পের অভাব রয়েছে। ফলে বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় কামরাঙ্গীরচরের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড কারখানাগুলোতে পলিথিন উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

