চাঁদাবাজির অভিযোগে শোকজ, সাংবাদিক সংগঠন দখলের চেষ্টা—জবি ছাত্রদল নেতা সুমন সরদারকে থামাবে কে?

পলি আক্তার, জবি প্রতিনিধি

(জবি) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। অতীতে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি, আর সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ—সব মিলিয়ে তাঁকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বারবার অভিযোগের পরও সুমন সরদারকে থামাবে কে?

২০২৫ সালের ২৮ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সুমন সরদারসহ জবি ছাত্রদলের তিন নেতাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি সুমন সর্দারেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকেএ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ২২ মার্চ আজমেরী পরিবহনের কাউন্টার দখল ও চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে বাসমালিকদের মারধরের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সুমন সরদারের বিরুদ্ধে। সাংবাদিকরা বলেন, "ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জবিরিইউর বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো উপেক্ষা করে আলাদা কমিটি ঘোষণার চেষ্টা করা হয়।

সাংবাদিকরা বলেন , ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউল্লাহ আহাদকে সাংবাদিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করা হয়। তাঁদের ভাষ্য, তিনি আগে জবিরিইউর সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। সদস্যদের সম্মতি ছাড়া স্বাক্ষর ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে কমিটি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।"

এই বিতর্কের মধ্যেই সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক আজকালের খবর-এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কায়েসের ওপর হামলার ঘটনায়ও সুমন সরদারের নাম আসে। কায়েস অভিযোগ করেছেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় সুমন তাঁকে ডেকে নেওয়ার পর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে মারধর করেন। তাঁর মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ থাকার দাবি করেছেন তিনি। হামলাসংক্রান্ত অভিযোগটি বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমভিত্তিক সংবাদ পোস্টেও প্রকাশিত হয়েছে।

অল্প সময়ের ব্যবধানে সাংবাদিক সংগঠনের কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার মতো অভিযোগে একই নেতার নাম আসায় ক্যাম্পাসের সাংবাদিক ও ছাত্রদলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, সুমন সরদারকে ঘিরে বারবার বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ‘মব’ তৈরি এবং চাঁদাবাজির মতো অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তবে এসব নতুন অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তাঁদের প্রশ্ন, অতীতে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং সাময়িক অব্যাহতির মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও একই নেতার বিরুদ্ধে যদি বারবার গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?

সাংবাদিকরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, কোনো ছাত্রনেতার স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণে হস্তক্ষেপ কিংবা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।