অষ্টগ্রামে জিডি-মামলার পরও প্রতিকার নেই, সুমাইয়ার পরিবারের অভিযোগের অনুসন্ধানে যা মিলল

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার মধ্য কলাপাড়া গ্রামে একটি পরিবারের অভিযোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), আদালতে মামলা—আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়ার পরও কেন মিলছে না প্রতিকার? কেনই বা অভিযোগে থাকা ব্যক্তিরা এখনো স্বাভাবিকভাবে এলাকায় চলাফেরা করছেন? এমন প্রশ্ন সামনে রেখে চ্যানেল সেভেন টিভির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেশ কিছু তথ্য।

ঘটনার সূত্রপাত অষ্টগ্রামের মধ্য কলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুমাইয়ার পরিবারকে ঘিরে। প্রতিবেশী আলমগীর মিয়া ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেছেন তারা। এ ঘটনায় থানায় জিডি করার পাশাপাশি আদালতে মামলাও করেছেন বলে জানান অভিযোগকারী।

চ্যানেল সেভেন টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগকারী পরিবারের বক্তব্যের পাশাপাশি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে আসে, অভিযোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিবারটি এখনো কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পায়নি বলে দাবি করছে।

অষ্টগ্রামে জিডি-মামলার পরও প্রতিকার নেই, সুমাইয়ার পরিবারের অভিযোগের অনুসন্ধানে যা মিলল

চ্যানেল সেভেন টিভির সঙ্গে ভয়েস রেকর্ডের মাধ্যমে কথা বলেন অভিযোগকারী সুমাইয়া। তিনি জানান, ঘটনার পর থানায় জিডি এবং আদালতে মামলা করেছেন। তবে এসব আইনি পদক্ষেপের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।

অভিযোগের বিষয়ে মামলার অগ্রগতি জানতে অষ্টগ্রাম থানার এসআই ফরিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চ্যানেল সেভেন টিভি। তিনি জানান, মামলার প্রতিবেদন খুব শিগগিরই বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তবে অনুসন্ধানে শুধু অভিযোগকারীর বক্তব্যই নয়, চ্যানেল সেভেন টিভির হাতে আসা কিছু ভিডিওচিত্রও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব ভিডিও এবং অভিযোগকারীর দেওয়া বক্তব্যে প্রতিবেশী আলমগীর মিয়া ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে।

অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ ও বিভিন্ন ঘটনার পর তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু মামলা ও জিডি করার পরও যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।

অন্যদিকে, পুলিশ বলছে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রতিবেদন আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, আদালতে মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সুমাইয়ার পরিবারের অভিযোগ, তারা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার ও নিরাপত্তা চান। আর চ্যানেল সেভেন টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা ভিডিওচিত্র, অভিযোগকারীর বক্তব্য ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে এখন নজর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে।

এই ঘটনায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের অবস্থান—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে চ্যানেল সেভেন টিভির অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।