সংস্কারের পরও কাটেনি কুবির ক্যাফেটেরিয়ার দুর্ভোগ

সাজিদুর রহমান, কুবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীর খাবারের প্রধান ভরসাস্থল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক সময় বহিরাগতরাও এখানে খাবার খেতে আসে। তবে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামোগত সংকট এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সেবার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। গত বছর সংস্কারকাজ হলেও এক বছরের মধ্যেই আবারও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে ক্যাফেটেরিয়াটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুমের একাধিক কল ও পানির ট্যাপ নষ্ট হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান অনেকটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। এছাড়া রয়েছে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত ও ব্যবহারযোগ্য ওয়াশরুমেরও সংকট।

অন্যদিকে, খাবারের মান ও বৈচিত্র্য নিয়েও অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজ খাবার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার ঘটনাও ক্যাফেটেরিয়ার স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এনিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল কাজী বলেন, "মাঝেমধ্যে ক্যাফেটেরিয়ায় খেতে যাই। পরিবেশ খুব একটা ভালো না। আগে খাবারের বৈচিত্র্য ছিল, এখন এক-দুই ধরনের খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্যাকেজ খাবারও বন্ধ হয়ে গেছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। খাবারের মান ও দাম কোনোটিই শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। অনেক সময় খাবার নেওয়ার সময় পাশেই মশা-মাছি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যায়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।"

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাঈমা সম্পা বলেন, “অনেক সময় দুপুরে ক্যাফেতে খাবার খেতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। কোনোদিন খাবারের মধ্যে মাকড়সার বাচ্চা, আবার কোনোদিন মাছের আঁশ পেয়েছি। এসব ঘটনার পর থেকেই ক্যাফের খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।”

ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজার ফরিদ উদ্দিন বলেন, "কল, বিদ্যুৎ, ওয়াশরুম ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কর্মকর্তারাও পরিদর্শনে এসেছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"

ক্যাফেটেরিয়ার আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ হারুন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। বিদ্যুতের সুইচ, লাইট ও পানির ফিল্টারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু কাজ চলমান রয়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"

প্যাকেজ খাবার বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, "পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় শর্তসাপেক্ষে প্যাকেজ চালু ছিল। তবে স্টাফদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয় বহন না করায় পরিচালনাকারীদের লোকসান হচ্ছে। এ কারণেই তারা প্যাকেজ খাবার চালু রাখতে আগ্রহী নয়।"

খাবারের পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ম্যানেজারকে বারবার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে এবং কমিটির সদস্যদের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আবার বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জনবল সংকট থাকলেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক জুলহাস উদ্দিন বলেন, "ক্যাফেটেরিয়ার সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে একটি কমিটি কাজ করছে। ইতোমধ্যে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান উন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিছু লাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকি সমস্যাগুলোও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।"