প্রখ্যাত বাজার গবেষক ও ব্যবসায়ী নেতা মনজুরুল হক আর নেই। শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর সাড়ে ৫টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মনজুরুল হক ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর তাঁর নিজ জেলা বগুড়ার নামাজগড় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
মনজুরুল হক ২০০১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইমস অব বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এটি ছিল দেশের প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। তিনি টানা ২৫ বছর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী অর্জন। দীর্ঘ এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তাঁর প্রতি অব্যাহত আস্থা ও শ্রদ্ধা ছিল।
তিনি একই সঙ্গে ওআরজি কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
মনজুরুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টসের স্বীকৃত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক ছিলেন।
১৯৯৪ সালে মনজুরুল হক ওআরজি-মার্গ কোয়েস্ট লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় যৌথ উদ্যোগভিত্তিক সামাজিক ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সালের শুরুতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির তাঁর অংশীদারিত্ব এসি নিলসেনের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি কোয়েস্ট অ্যান্ড এইমস কনসালটিং সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালে ওআরজি ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে ওআরজি কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেডে রূপান্তরিত হয়।
মনজুরুল হকের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এইমস অব বাংলাদেশ লিমিটেড ও ওআরজি কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জীবনের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে চিরশান্তি এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্য দোয়া করা হয়েছে।
