মানিকগঞ্জে সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও জালিয়াতির অভিযোগ

মানিকগঞ্জ জেলার ধুলশুরা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাকিব হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও জালিয়াতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবায় অনিয়ম ও ঘুষের একটি প্রথা চালু করেছেন, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাকিব হাসান নিয়মিতভাবে ধুলশুরা ও হারুকান্দি—এই দুই ইউনিয়নের ভূমি অফিসের দায়িত্ব পালন করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন কিংবা অন্য কোনো ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গেলে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়াচড়া করে না। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিন ধরে অফিসে ঘুরতে হয়।

অনুসন্ধানের সূত্রে একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল হাকিম গং এর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২৫ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে জালাল মোল্লার নামে করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, টাকার বিনিময়ে ওই জমিটি জামেলা বেগম, শারমিন, মোঃ কাজল মোল্লা, মিলন মোল্লা এবং কিরন মোল্লার নামে নামজারিও করে দেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাকিব হাসান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাকিব হাসান অভিযোগ স্বীকার না করে বরং বিষয়টি ‘সমাধান’ করার প্রস্তাব দেন বলে দাবি করেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন।

২০২৩ সালে ধুলশুরা ইউনিয়নের সিকস্তি জমি নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শতাংশপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব জমির নামজারি করে দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ৪০ শতাংশ আবার কোথাও ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি জমির দাগ নিয়ে অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • দাগ নং ৩০২১ — শ্রেণি: নাল, পরিমাণ: ৬ একর
  • দাগ নং ৩৯১৬ ও ৩৯১৭ — শ্রেণি: নাল, পরিমাণ: ৭৯.৫ শতাংশ
  • দাগ নং ৫২৬৩ — শ্রেণি: নাল, পরিমাণ: ২৫ শতাংশ

এছাড়াও ভুল রেকর্ড সংশোধনের জন্য ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি জমির দাগ নম্বর ৪৯২৫ হওয়ার কথা থাকলেও ভুল রেকর্ডে ৪৯২৬ হয়ে যায়। এই ভুল সংশোধনের জন্যই ওই টাকা দাবি করা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, “টাকা ছাড়া এই অফিসে কোনো কাজ হয় না। এমন দুর্নীতিবাজ নায়েব আমাদের ইউনিয়নে আমরা চাই না।”

অনুসন্ধানের বিষয়গুলো সহকারী ভূমি কমিশনারকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন। তিনি জানান, জাল দলিলের মাধ্যমে করা জামেলা বেগম, শারমিন, মোঃ কাজল মোল্লা, মিলন মোল্লা এবং কিরন মোল্লার নামজারি বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে বাতিল হিসেবে গণ্য হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম না ঘটে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা