যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারী দোকানকর্মীকে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক বাংলাদেশি নারী দোকানকর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী দোকানটির মালিক আরিফ আহমেদ আশরাফ ।

নিহত নিলুফার ইয়াসমিন (৪২) ‘ডিঅ্যান্ডডি কনভেনিয়েন্স স্টোর’-এর কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নে। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের বোন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোবার্ট জোয়াসিন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সিসিটিভির ভিডিওর শেষ দিকে দেখা যায়, ইয়াসমিন চৌধুরী গুরুতর আহত অবস্থায় স্টোরের বাইরে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ে আছেন। ঘাতক তাকে নিথর অবস্থায় ফেলে রেখে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে।এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফ্লোরিডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। প্রবাসীদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর এ ধরনের হামলা ক্রমাগত বাড়ছে। সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকের চেহারা স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোকানের বাইরে পার্ক করা একটি গাড়ির কাঁচ হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে দোকান থেকে বের হলে নিলুফার ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারী তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

দোকানে উপস্থিত আরেকজন স্প্যানিশ নারী কর্মীর বরাতে দোকান মালিক জানান, কয়েকদিন আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি এটিএম মেশিন থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়ে নিলুফারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
ফোর্ট মায়ার্স পুলিশের প্রাথমিক ধারণায়, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমানে মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।