হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী : হত্যার অভিযোগ

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে স্বামী পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের টাকিয়ারকুল গ্রামে ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত লতিফা (১৮) উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের উত্তরকুলিয়া গ্রামের শের আলী শেখের কন্যা।

নিহতের পরিবারের দাবি লতিফাকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পিতা অভিযোগ করে বলেন, ৩ মাস আগে পারিবারিকভাবে টাকিয়ারকুল গ্রামের রানা মোল্লা, পিতা মিজান মোল্লার সাথে তার মেয়ের বিবাহ হয়। বিয়ের একমাস যেতে না যেতেই শুরু হয় নানাবিধ অশান্তি। প্রায়শই তার মেয়েকে কারনে অকারণে অত্যাচার নির্যাতন করত রানার পরিবার। তার দাবী লতিফাকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে।

এলাকাবাসী জানায়, এর আগে রানার ৭ টি বিবাহ ছিল, পরিবারের অত্যাচারে সবাই ছেড়ে গেছে। ৮ নং স্ত্রী ছিল লতিফা। লতিফাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে ঘটনার পর রানা তার বাড়ির সকল মালামাল নিয়ে পালিয়ে গেছে।

নিহতের শাশুড়ি বলেন, সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তাকে অনেক ডাকাডাকি করেন কিন্তু সে কোন ডাকে সাড়া না দেওয়ায় লতিফার স্বামী রানা মোল্লা ঘরের দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢোকেন এবং তাকে ঘরের ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেয়েছি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান, এসময় তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে দ্রুত মোল্লাহাট হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে তার ছেলে ও দুই কন্যা কেন পালিয়ে গিয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ বাগেরহাট জেলা সদর হাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।