সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ বলেন, ‘মাদ্রাসা ভাঙচুর করবে কেনো? তার বাপের প্রতিষ্ঠান নাকি এটা? উনি চুমু দেয় নাই, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। একজন ওস্তাদ, তার শিক্ষক তাকে কতটুকু ভালোবাসার পরে সে বলছে—রেজাল্ট ভালো হওয়ার পরে বলছে তোমাকে চুমু দিব।’
তাশরীফ নিজের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘এখন আমি যদি এই কথা বলি যে আমাদের অনেক বাচ্চাদেরকে আমি চুমা দিছি, তাইলে আমারে মারার সাহস আছে? ওরে তো আমারে মারার আগে ওরে খতম করে ফেলতো। আমার জায়গায় যদি হইতো, আমার সাথে যে ১০০ লোক থাকতো, তারে খতম করে দিত। কিন্তু সে এই জায়গায় আইসা যে কাজটা করছে, এই শাহজালাল রুমি আমার দুইটা ফেসবুক আইডি খেয়ে দিয়েছে। যাই হোক, এগুলো দিয়ে আমাদেরকে দমায় রাখতে পারবে না।’
তিনি বলেন, তাঁরা কোনো পক্ষ নিয়ে কথা বলতে চান না। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেলে মারধরের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে শুধু চুমু দেওয়ার কথা বলার কারণে এভাবে মারধর করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাশরীফ।
শাহজালাল রুমির উদ্দেশে তিনি বলেন, চাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টক শোতে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছেন। তাঁর বক্তব্য, অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত। এ সময় তিনি আবারও দাবি করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ভালো ফল করলে ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং তাকে চকলেটও দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর দুপুরে টঙ্গীর আউচপড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তাঁকে চড়-থাপ্পড় মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলেউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। উক্ত ঘটনার পরই সংবাদ সম্মেলনে এসে এমন মন্তব্য করেন হাফেজ তাশরীফ।
